হাফসার বৈশাখের আনন্দ-ছোট গল্প

by - July 31, 2020



হাফসার বৈশাখের আনন্দ,,

                  - জুয়েল আশরাফ,,

হাফসা মহা খুশী। আর মাত্র তিন দিন পরেই পহেলা বৈশাখ। শুভ নববর্ষ। বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। বৈশাখ বাঙালির মনে উৎসবের রং লাগায়। হাফসার মনে রং লেগে আছে। সারাটা বছর সে অপেক্ষা করে থাকে এই দিনটার জন্য। পহেলা বৈশাখ মানেই আনন্দ, হৈ-হুল্লোড়, মেলায় ঘুরতে যাওয়া। 
হাফসা মনে মনে ভাবতে থাকে এবার সে কীভাবে পহেলা বৈশাখে আনন্দ করবে আর কোথায় যাবে, কী কী কিনবে। সে কাগজ কলম টেনে নিয়ে লিখতে থাকে-
পহেলা বৈশাখে আমাদের বাসায় সবাই বেড়াতে আসবে। আমাদের বাসার কাছে প্রাইমারী স্কুল মাঠে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখের সময় মেলা বসে। সাতদিন পর্যন্ত সেই মেলা চলে। বিকেলে সবার সঙ্গে মাঠে মেলা দেখতে যাব। পুতুল কিনব, বাঁশি বেলুন, রঙিন পাখা কিনব। মেলায় অনেক মজার খাবার পাওয়া যায়। এবার নববর্ষে সেসব কিনব। পিঠা, বাতাসি, মুড়ি-মুড়কি, খই কিনে খাব। মেলায় পুতুল নাচ দেখব। দোলনায় চড়ব। মুখোশ কিনে পড়ব। পান্তা-ইলিশ খাব। খুব মজা করব।
হাফসা, কি লিখছিস মা?
হাফসা তাকিয়ে দেখে, মা কৌতূহলী হয়ে তার লেখা পড়ে যাচ্ছে।
এসব কী লিখেছিস তুই!
হাফসা খুশি গলায় বলল, পহেলা বৈশাখের লিস্ট করছি মা।
মা বললেন, এবার তো পহেলা বৈশাখের কোনো অনুষ্ঠান হবে না। সারা বাংলাদেশে বৈশাখের সব রকম অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী।
মুহূর্তেই হাফসার চেহারা থেকে খুশীর ঝলক উড়ে গেল। জানতে চাইল, কেন হবে না মা?
মা বললেন, সারা পৃথিবীতে করোনা ভাইরাস মহামারীতে ছেয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের মানুষদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই সরকার এ বছর নববর্ষ উদযাপন স্থগিত ঘোষণা করেছেন। আমরা যতক্ষণ ঘরে থাকব এতেই আমাদের জন্য কল্যাণ।
তাহলে এ বছর নতুন বছরের আনন্দ করব না? মেলায় যাওয়া হবে না?
ইনশাআল্লাহ আগামী বছর মেলায় যাওয়া হবে।
হাফসা মন খারাপ নিয়ে চুপ হয়ে গেল। মা টের পেয়ে বললেন, মন খারাপ করিস না মা। বৈশাখের দিন তুই যা কিছু খেতে চাইবি সবকিছু তোর বাবা এনে দেবে।
হাফসা বলল, আচ্ছা মা একটা কাজ করো। এই বৈশাখে আমার পেছনে খরচ করার জন্য যত টাকা বাজেট করেছ সবগুলো টাকা আমাকে এখনই দিয়ে দাও।
টাকা দিয়ে কি করবি?
আমি টাকাটা গরীবদের দেব। অনেক গরীব শিশুরা করোনা ভাইরাসের কারণে ঘরে বন্দী হয়ে আছে। ঠিকমত খেতে পায় না। আমার বান্ধবী তামান্না ফোনে বলেছে এসব আমাকে। সে-ও গরীব শিশুদের জন্য টাকা খরচ করবে।
মা হাফসাকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে চুমু খেলেন। তার এই টুকুন মেয়ের মানুষের প্রতি উদারতার কথা ভেবে আনন্দে চোখে জল এল। 
হাফসা বলল, টাকাটা দেবে তো মা?
দেব।
হাফসা আনন্দে বলল, তুমি যদি আমার টাকাটা গরীবদের দাও তাহলে এটা হবে আমার সেরা পহেলা বৈশাখ!

You May Also Like

0 Comments