Kalagaas aar taalgaas- bengali
কলাগাছ আর তালগাছ,,
খায়রুল আলম রাজু,,
লম্বা তালগাছটার মন খারাপ।আনমনে সে বলতে থাকে, কলাগাছটার কি সুন্দর পাতা!সবুজ সবুজ।গাছটিও সবুজ। গাঢ় সবুজ।পাতারাও অনেক কাজের।বৃষ্টিতে ছাতা হয়।আর শরীর সে তো পানির রাজা। কেননা কলাগাছ দিয়ে বানানো যায় ভেলা;যা কি না বর্ষায় যাতায়াতের উত্তম মাধ্যম।কলাগাছটার কতো আনন্দ।গাছটা কতো সুখি।বাতাসে দোল খায়। মাথায় মুচি গজায়।মুচি থেকে চড়ি।আর চড়িতে ঝুলে থাকে কত কলা!কি সুস্বাদু ফল।তালগাছটা এসব বলছিল বাবুইপাখিকে।বাবুই তার প্রতিবেশী।তালগাছটাতেই ওর বাসা।ওদিকে বাবুই কলাগাছটার বন্ধু। পুকুর পাড়ের পশ্চিমে কলাগাছটার আবাস, ঠিক তার পূর্বে তালগাছটা।বাবুইপাখি চলল, কলাগাছটার কাছে আর বলল,কেমন আছ বন্ধু?
—আমি আর কি ভালো থাকবো সই। ছোট একটি গাছ আমি।লতাপাতার ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকি।ভালো তো থাকবে তালগাছটা।পুবের দিকে তাকিয়ে দেখ, কি দারুণ দৃশ্য; তোমার বাসা দোলখেলে!কি সুন্দর বাসা তোমাদের। কতো সুন্দর ওই তালগাছটাও।কত্তো লম্বা।আকাশ ছুঁইছুঁই।বছর বছর সে উপহার দেয় সুস্বাদু ফল।তাল যেমন সুন্দর নাম তেমনি মজারও।আরও মজাদার হয় তালের পিঠে।বাবুইপাখি হেসে উঠলো আর বলল,“তোমরা এতো বোকা! তুমি বলো তালগাছটা সুন্দর আর সুখি। কিন্তু তার মতে, তুমি তার থেকে সুন্দর এবং সুখি গাছ!” আসলে জানো বন্ধু, জগতে সবাই সুখি। আবার কেউ'ই সুখি না। কেননা যারা অল্পতে সন্তুষ্ট তারাই কেবল সুখি।তেমনিভাবে যারা শুধু চাই, চাই করে তারাই দুখী।তারা যা আছে তাতে সন্তুষ্ট থাকে না। ফলে সে আরও চাই, আরও চাই,এটা চাই, ওটা চাই, চাই...চাই... করে!এতে করে তার দুঃখ বাড়ে।আর সে ভাবে আমার থেকে অন্যজন সুখি।সেই অন্যজন ভাবে ঠিক তার বিপরীত।
এজন্যই তো বিশ্বকবি রবি ঠাকুর বলেছেন,
“নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,
ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।
নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে;
কহে,যাহা কিছু সুখ সকলি ওপারে।”
কলাগাছটা বিষয়টি বুঝতে পারলো, আর তালগাছও।তারা তাদের ভুল শুধরে নিলো আর নিজের যা আছে তাতেই সুখ খোঁজতে লাগলো।এতে তারা নিজেদের সুখি গাছ হিসেবে পরিচয় দিতে আনন্দ পায়। বাবুইপাখিকে তারা ধন্যবাদ জানায়।তাদের ভুল ধারণা সম্মুখে প্রকাশের জন্য।সেদিনের পর থেকে কলাগাছ, তালগাছ বাবুইপাখি তিন বন্ধু। Please- Follow & Share



3 Comments
one online Sunderland golpo
ReplyDeleteবাহ! চমৎকার গল্প।
ReplyDeleteWow;;;
ReplyDelete