তেঁতুলগাছের ভূত-শিশুতোষ
তেঁতুলগাছের ভূত,,
খায়রুল আলম রাজু,,
রাত তখন দশটা প্রায়। একা একাই বন্ধুর বাসা থেকে বাড়ি ফিরছি। এই পথে আরও অনেকবার এসেছি। কখনো রাত এগারোটা কিংবা বারোটায়।তখনো একাই আসতাম। কেননা ওদের বাসা থেকে আমার বাসার দূরত্ব— পাঁচ মিনিটের। ওদের বাসা বলতে, আমার কিছু বন্ধুরা ব্যাচেলর। দুটো রুমওয়ালা বাসায় চারজন ভাড়া থাকে। মূলত আমরা ছাত্র। কলেজে পড়ি। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিবো—এ বছর। তাই “গ্রুপ স্টাডি” করি। এজন্যই তাদের বাসায় আমার আসা-যাওয়া। সেদিন রাতে ফিরছি অন্য রাতের তুলনায়— বেশ আগেই। এমনিতে এগারোটা, বারোটায় ফিরি।কিন্তু সেরাতে (২৪ মার্চ ২০১৯ ইং) যখন বাসায় ফিরছি ঘড়ির কাটায় তখন রাত দশটা প্রায়। ওদের বাসা থেকে রাস্তায় নামতেই একটি তেঁতুলগাছ। অনেক বড়। আজ গাছটার পাশে আসতেই, ভয় ভয় লাগছিলো। কিন্তু যখন এগারোটা বারোটায় আসতাম, তখন ভয় পেতাম না! হঠাৎ মনে হচ্ছিল কেউ আমার আশেপাশেই হাঁটছে। আমি দ্রুত সেখান থেকে চলে আসলাম। মেইন রোড পেরিয়ে বাড়িতে চলে এলাম। একটু পরই প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হলো। রাতের খাবার না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম। আম্মু অনেকবার ডাকলেন। খেতেও বললেন বারবার। কিন্তু আমি আম্মুর ডাকে সাড়া দেইনি। ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুমিয়ে মানে, গভীর ঘুমে। আমার পাশেই ছোট ভাই (আমার ছোট) কাউছার ঘুমায়। হঠাৎ আমি ঘুম থেকে জেগে উঠলাম! সারা শরীর ঘেমে ভিজে গেছে। দেখলে মনে হবে যে, এই মাত্র গোসল করেছি! কিন্তু না আমি দুঃস্বপ্ন দেখেছি। তবে স্বপ্নে যা দেখেছি, তা লিখে প্রকাশ করার মতো না! স্বপ্নে দেখলাম আমি সেই তেঁতুলগাছের পাশে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। চারপাশে ঘন অন্ধকার—আলো নেই! গাছের কাছে যেতেই, মাথায় একটি লাল কাপড় পড়ল! আমি দৌঁড়ে বাসায় এলাম। হঠাৎ মনে হলো আমি ঘুমিয়ে আছি নিজের রুমে। কিন্তু আমি বাম পা ছাড়া শরীরের কোনো অঙ্গই নাড়াতে পারছি না! কথাও বলতে পারছি না। এভাবে অনেকক্ষণ হলো। আমি পা দিয়ে ছোট ভাইকে লাথি দিচ্ছি। কিন্তু সে টেরই পাচ্ছে না! আম্মু, আম্মুও বলতে পারছি না! শুধু আ আ আ করছি। তখন সামনের দিকে তাকালাম। সামনে ছিলো ড্রেসিং টেবিল। আমার বিছানার পালঙ্ক ছিল উত্তর-দক্ষিণ দিকে মুখ করা। আমি শুয়ে আছি দক্ষিণে মাথা দিয়ে—উত্তর দিকে ড্রেসিং টেবিল। আর মাথার পাশেই পড়ার টেবিল। পাশের রুমেই আম্মু ঘুমে। আমি সামনে খেয়াল করলাম। আয়নায় সাদা কাপড়ে আবৃত কেউ আছেন। স্পষ্ট দেখছি আমি। মাথাটা হাল্কা ডান দিকে ঘুরালাম। খুব কষ্টে! তখন দেখি পড়ার টেবিলে কালো কাপড় পড়া কেউ! ভয়টা তখন আরও বেড়ে গেলো। অনুমান করলাম, ভয়ংকর একটা মূহুর্তে ডুবে গেছি। সামনে আবারো তাকালাম। তখন দেখি কালো কাপড়ে আবৃত। পুনরায় ডানে তাকালাম। এবার মাথা ঘুরাতে আরও বেশি কষ্ট হলো! তখন খেয়াল করলাম, টেবিলে সাদা কাপড় পরে কে বসে আছে! মূহুর্তটা যেনো ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে! এদিকে ঘরের কেউ বুঝতেও পারছেন না, আমার সাথে কী হচ্ছে। তখন ঘুমেই সুরা ফাতেহা ও এখলাছ পড়তেছি । এভাবে ৩০ মিনিট পেরিয়ে গেলো। হঠাৎ বাস্তবে ফিরে এলাম। ঘেমে পুরো শরীর ভিজে গেলো। বুঝতে পারছি না আমি কোথায় আছি! ভাবছি এতক্ষণ কী হচ্ছিল আমার সাথে? কিন্তু কিছুতেই উত্তর পাচ্ছি না! বিছানা থেকে ওঠে বাথরুমে গেলাম। হাত-মুখ ধুয়ে, বিছানায় আসলাম। ঘরের সবাই তখন গভীর ঘুমে। ঘড়ির কাটায় তখন রাত তিনটে ত্রিশ মিনিট। ঘুম আসছে না আর! জেগে আছি। ভাবছি কেবল ভাবছি। এতক্ষণ কোথায় ছিলাম? কী অদ্ভুত দৃশ্যই না দেখলাম— এতক্ষণ! কিছুতেই ভুলতে পারছি না, সেই ক্ষণ, সেই ভয়ংকর মূহুর্ত! একটু পরেই মিনার থেকে ভেসে আসছিল —ফজরের আজান; মুয়াজ্জিনের মধুর কণ্ঠে। কিন্তু রাতে ঘুম হয়নি। নামাজ না পড়েই ঘুমিয়ে পড়লাম৷ সকালে উঠেই আম্মুকে সব খুলে বললাম! বন্ধুদেরও বললাম। কিন্তু কারোর বিশ্বাস হয়নি—আমার কথা। আমার সেই ভয়ংকর স্বপ্নের কথা!বর্ণনা শুনে সবাই হাসছিল, ঠাট্টা করছিল। কিন্তু কাউকেই বিশ্বাস করাতে পারছি না— সত্যটা আসলে কী? কেউ উত্তরও দিলো না, স্বপ্নের সেই সাদা-কালো কাপড়ে আবৃত দেহটি কিসের বা কার! সেটা কি আসলেই স্বপ্নই ছিলো, নাকি “তেঁতুলগাছের ভূত” ছিল? আজো জানা হলো না। জানা হবেও না হয়তো। রহস্য কি তবে রহস্যই থেকে যাবে? ভয়ংকর এই বিষয়টি কি উন্মোচন হবে না?


0 Comments