পাইরেটস এর ভবিষ্যৎ বাণী-ছোট গল্প
পাইরেটস এর ভবিষ্যৎ বাণী,,
সুবর্না আক্তার,,
আলো আঁধার আমার বেশ পছন্দে। ঠিক এরকম একটা পরিবেশে বসে আছি। এই সময় কেন জানি, আমার মধ্যে অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে। যা অন্য সময় লাগে না। কার ডাকে জানি আমার চেতনা ফিরল। চেয়ে দেখি একটা জ্বোনাকী।কিন্তু কে আমাকে ডাকল? ভাবছি আর জ্বোনাকীর দিকে তাকিয়ে আছি। আমাকে অবাক করে দিয়ে বলে উঠল-আজকের পরিবেশটা বেশ সুন্দর, তাই না?
আমি হা করে আছি। এ মা! এ কথাও বলতে পারে!
-কী ভাবছো?
-তুমি কথা বলতে পারো?
-আমরা কথা বলতে পারি না?
-তাই তো জানি। পশু পাখি কীটপতঙ্গ কথা বলতে পারে না।
-আমি কথা বলতে পারি। তোমাদের বিজ্ঞান যেমন রোবটের মুখে ভাষা দিচ্ছে? আমিও তেমনি ভাবে কোনো এক যন্ত্রের মাধ্যমে তোমার সাথে কথা বলছি।
এ কথা বলে সে তার ডানার নিচে ক্ষুদ্র একটা যন্ত্র দেখালো। বলল- এটা হলো কথা বলার যন্ত্র। যে কোনো প্রাণী এর সাহায্যে মানুষের সাথে কথা বলতে পারে।
-তাই না-কি?
-হ্যাঁ, আমার মা এটা আমাকে দিয়েছে। কোনো এক ভিন গ্রহের প্রাণী এটা ফেলে গেছে। মা আমার জন্য খাবার আনতে গিয়ে এটা পেয়েছে।আর আমার জন্মদিনে এটা আমাকে উপহার হিসেবে দিয়েছে। আজ আমার জন্মদিন ছিলো।
-শুভ জন্মদিন জোনাকির ছানা।
-ধন্যবাদ। তবে আমাকে পাইরেটস নামে ডাকবে।
-আচ্ছা। পাইরেটস, তুমি এ যন্ত্রের সাহায্যে আমার মনের কথা ধরতে পারো?
-হুম,পারি তো।
-তাই? তবে বলো তো, আমি কী ভাবছিলাম?
-তুমি ভাবছিলে, এই পৃথিবী আগের মতো সুস্থ সুন্দর হয়ে উঠুক। সকলে মিলে আবার কাজ কর্ম ও হাসিতে খুশিতে ভরে উঠুক।
-হু। তুমি তো ঠিকই ধরেছো। আর যে ভালো লাগে না।
-হ্যাঁ, আমাদেরও ভালো লাগে না।
-তোমাদের আবার কী হলো?
-তুমি তো জানোই, কোভিড-১৯ না-কি জন্তুর শরীর থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে?
-হু, এটাতো সত্যি।
-তাই মা আমাকে যেখানে-সেখানে যেতে দেন না।আমাদেরও যদি ওরকম কিছু হয়ে যায়! এর জন্য।
-তোমার মা তো ঠিক বলেছেন। আর এখানে আসলে কীভাবে?
-মা গিয়েছেন খাবারের খোঁজে আর আমি দূর থেকে তোমার মনের কথা শুনে সোজা তোমার কাছে চলে এসেছি।
-তোমার মা যদি বাসায় এসে তোমাকে না পায়?
-আমি তার আগেই চলে যাবো। আমার ঘরে থাকতে একটুও ভালো লাগে না। তবে তোমার মনের কথা শুনে তোমাকে একটা সুখবর দিতে এসেছি।
-তাই? কী সুখবর?
-এই যন্ত্রটা ভবিষ্যৎ বাণীও করতে পারে। যেটা মা জানে না আমি জানি।
-বলো কী সুখবর?
-এই পৃথিবী খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে।
-সত্যি বলছো?
-হ্যাঁ একদম সত্যি বলছি।
-পাইরেটস, মজা নিচ্ছো না তো?
-আরে নাহ। তোমার মন খারাপ আর এসব চিন্তা করছো দেখে যন্ত্রটিকে বলেছিলাম 'দো-পেয়ে দানবগুলো কবে এর থেকে মুক্তি পাবে?' সে-ই আমাকে জানালো একথা।
-পাইরেটস, তোমায় অনেক ধন্যবাদ। এমন একটা সুখবর শোনানোর জন্য। আমার মনটা খুশিতে ভরে উঠলো।
আমি পাইরেটস এর সাথে আরো কিছু সময় গল্প করলাম।
-মা আসছে। আমি যাই। ভালো থেকো সুস্থ থেকো।
-তুমিও। তবে আবার এসো। তোমার সাথে গল্প করে খুব ভালো লাগলো। আর এই সুস্থ পৃথিবীতে তোমার সাথে প্রতিদিন কথা হবে পাইরেটস।
-তোমার সাথেও প্রতিদিন কথা হবে এই যন্ত্রের সাহায্যে।
মার হাতের থাবা খেয়ে আমার ঘুমটা ভেঙে গেলো। দেখলাম স্বপ্ন দেখছি। তবে তা ভোরের দিকে। ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয় শুনেছি। মুখটা খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল।


0 Comments